তীব্র তাপদাহে হিটস্ট্রোক ও ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধে করণীয়

*”তীব্র তাপদাহে হিটস্ট্রোক ও ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধে ”গরমে লেবু পানি: হিটস্ট্রোকের ঢাল”*

সবীর আহমেদ ফোরকান পরশুরাম প্রতিনিধি ঃপ্রচণ্ড গরমে সুস্থ থাকতে হলে প্রয়োজন বাড়তি সচেতনতা ও যত্ন। তীব্র তাপদাহে এক গ্লাস লেবু পানি হতে পারে তাৎক্ষণিক স্বস্তি ও সুস্থতার সহজ সমাধান।বিশেষজ্ঞদের মতে, লেবু পানির রয়েছে নানা স্বাস্থ্য উপকারিতা, যা গরমে শরীরকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।গরমে অতিরিক্ত ঘামের ফলে শরীর থেকে পটাশিয়াম, সোডিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় ইলেকট্রোলাইট বেরিয়ে যায়। লেবুতে থাকা পটাশিয়াম এই ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে এবং শরীরের ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখে।এছাড়া লেবুপানি শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক। এটি শরীরকে ভেতর থেকে শীতল রাখে, ফলে হিটস্ট্রোকসহ অতিরিক্ত তাপজনিত সমস্যা প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।তীব্র রোদে ত্বকের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। লেবুর শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি ত্বকের সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে এবং ত্বককে হাইড্রেটেড রাখে।পানিস্বল্পতার কারণে অনেকের প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া বা সংক্রমণ দেখা দেয়। লেবুপানি প্রস্রাবের পিএইচ লেভেল নিয়ন্ত্রণে রেখে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দূর করতে সহায়তা করে।উদ্ভিজ্জ খাবার যেমন পালংশাক বা ডাল থেকে আয়রন শোষণ তুলনামূলকভাবে কঠিন। লেবুতে থাকা ভিটামিন সি ও সাইট্রিক অ্যাসিড এই আয়রন শোষণ প্রক্রিয়াকে সহজ করে, যা রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে সহায়ক।লেবু ভিটামিন সি ও ফ্ল্যাভোনয়েডের একটি চমৎকার উৎস। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত সাইট্রাস জাতীয় ফল গ্রহণ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে, যা হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখে। উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা পরিমিত পরিমাণে লেবুপানি গ্রহণ করতে পারেন।এছাড়া লেবুপানি পিত্তরস নিঃসরণে সহায়তা করে, যা হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য ও বদহজম কমাতে সাহায্য করে।তবে এত উপকারিতা থাকা সত্ত্বেও যাঁদের বিশেষ কোনো শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে লেবুপানি গ্রহণের আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *