বাগমারায় পুকুরে বিষ প্রয়োগে ৪ লাখ টাকার মাছ নিধনের ঘটনায় থানায় অভিযোগ

বাগমারায় পুকুরে বিষ প্রয়োগে ৪ লাখ টাকার মাছ নিধনের ঘটনায় থানায় অভিযোগ

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ঝিকরা ইউনিয়নের মাধাইমুড়ি গ্রামে একটি মাছের পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ৪ লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে।এ ঘটনায় বাগমারা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী মাছচাষি রেজাউল করিম।

লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, উপজেলার ঝিকড়া মৌজার জেল নং-২২৮ এর ৭০ শতক আয়তনের একটি পুকুরে তিনি ও তার অংশীদাররা প্রায় ১০ মাস ধরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করে আসছিলেন।পুকুরটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।এর জেরে মাধাইমুড়ি গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে আঃ আজিজ (৬০), মৃত আবুল হাসিমের ছেলে বাবুল (৫৫) এবং মৃত জব্বারের ছেলে কামরুজ্জামান (৫৫)-এর বিরুদ্ধে পুকুরে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ আনা হয়েছে।অভিযোগে বলা হয়, গত ১৯ জুন রাতে স্থানীয়ভাবে একটি মীমাংসা বৈঠকে অভিযুক্তদের সঙ্গে সমঝোতা হয় এবং নগদ ৭৭ হাজার ৫০০ টাকা প্রদান করা হয়।কিন্তু পরদিন ২০ জুন রাত আনুমানিক ৩টার দিকে অভিযুক্তরা পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে বলে অভিযোগ করেন রেজাউল করিম।তিনি আরও জানান, স্থানীয় বাসিন্দা সফর আলী ও ইব্রাহিম ঘটনাস্থলে অভিযুক্তদের দেখতে পেয়ে ডাকচিৎকার করলে তারা দ্রুত সেখান থেকে চলে যায়।পরে ভোরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন পুকুরের মাছ মরে ভেসে উঠছে। এতে রুই, কাতল, জাপানি, মৃগেল ও আইড়সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মারা যায়। যার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪ লাখ টাকা বলে দাবি করা হয়েছে।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী রেজাউল করিম বাগমারা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।এ ঘটনায় অভিযুক্ত আজিজুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা আগে মাছ চাষ করতাম অংশীদারদের কাছ থেকে লীজ নিয়ে। লীজের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় অন্য অংশীদারগণ নিজেরাই মাছ চাষ করছে।তারা আমার অংশের টাকা আমাকে দিচ্ছে তবে বিষ কে বা কারা দিয়েছে এটা আমার জানা নেই।এ বিষয়ে বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের অভিযোগে একটি লিখিত আবেদন পেয়েছি।বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *